October 24, 2026, 3:58 am
দেশি-বিদেশি একনায়কতান্ত্রিক বামপন্থি শক্তি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো বৈশ্বিক আলোকবর্তিকাকে যে কোনো মূল্যে নিভিয়ে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা ড. ইউনূসের ওপর হওয়া জুলুম-নিষ্ঠুরতার জবাব দিব। তার সম্মান রক্ষায় রাস্তায় প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবো। প্রয়োজনে রাজপথে রক্ত দিব ইনশাআল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মশালমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন রেজা কিবরিয়া। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর সরকারের জুডিশিয়াল হয়রানি এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি হয়।
রেজা কিবরিয়া বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ মাটির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যবিমোচনে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন। সে কারণে তিনি এই সরকারের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার। এ জন্য ঈর্ষান্বিত দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ শকুনের কুদৃষ্টি পড়েছে তার ওপর।
তিনি বলেন, আজ পরিকল্পিতভাবে ড. ইউনূসকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা করছে এই ভোটারবিহীন সরকার। আর সে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে ইন্ধন দিচ্ছে দেশি-বিদেশি একনায়কতান্ত্রিক বামপন্থি শক্তি।
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান বলেন, ড. ইউনূসের শত্রুরা অনেক বড় মাপের দেশি-বিদেশি অপশক্তি। তাদের শিকড় অনেক গভীরে। ওই অপশক্তিগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদেরও শত্রু ছিল। তারা মূলত বাংলাদেশ ভূখণ্ডেরই শত্রু। এই দেশি-বিদেশি শত্রুরা এক সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শহীদ করেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ এ দেশের ধর্মীয় ডানপন্থিদের গুম-খুন-নিপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে। তারা বর্তমানে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বিনা চিকিৎসায় আটকে রেখেছে। তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করেছে। মূল কথা, তারা এ দেশে ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী কোনো শক্তিকেই উঠতে দিতে চায় না। সুযোগ পেলেই ডানপন্থিদের নির্মূল করে দিচ্ছে।
ফারুক হাসান বলেন, এ দেশের মানুষ জীবন দিয়ে হলেও তাদের হারানো গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মান রক্ষা করবে। তিনি অবিলম্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একদফা দাবি মেনে নেওয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন।
পরে রেজা কিবরিয়া ও ফারুক হাসানের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাবিবুর রহমান, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ শামসুল আলম, সাদ্দাম হোসেন, সাবেক জজ শামসুল আলম খান চৌধুরী, ব্যারিস্টার জিসান মহসীন, যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, তারেক রহমান, সাকিব হোসেন, সামসুদ্দিন, খায়রুল কবির, সদস্য ইসমাইল হোসেন বন্ধন, জিয়াউর রহমান, শামীম রেজা, মোজাম্মেল মিয়জি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।